হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলার দাবি ব্যবসায়ীদের

46

দেশান্তর সংবাদ ডেস্কঃ

চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পসহ উৎপাদনমুখী কারখানা খোলার অনুমতির পর এবার দেশের সব হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সোমবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি এই দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। এ সময় খাদ্যপণ্যের অনলাইন ডেলিভারি কোম্পানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কমিশনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা ও নিয়ন্ত্রণেরও দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। এ সময় অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইমরান হাসান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল রেস্তোরাঁ, স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী খোলা রাখতে চাই। যদি সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ আসনে বসিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু করতে চাই।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু তৈরি পোশাক খাত দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেনি। হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত তাদের পর্যায়ে অবদান রাখলেও এ খাতে কোনো সহযোগিতা বা প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। সহজশর্তে, স্বল্পসুদে জামানতবিহীন এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে এ খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি আমরা।
লকডাউনে খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। যারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেশে শতকরা ৮০ ভাগ রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে টেলিফোন আসছে। আমাদের বাঁচান। আমরা এ ব্যবসায় টিকে থাকতে পারলাম না। এমন কথা সর্বদা উচ্চারিত হচ্ছে, যা আমাদের কষ্ট দেয়। রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হৃদয়বিদারক কষ্ট করছেন, যা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।
লকডাউন ও করোনাকালে হোটেল-রেস্তোরাঁর ব্যবসা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে এই খাতের ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছে। এ সময়ে ক্ষতি হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এখন দ্বিতীয় ঢেউয়ে ৮০ শতাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে ক্ষতির পরিমাণ ও ব্যবসা ছেড়ে যাওয়ার সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে এর পরিমাণ প্রথম থেকে দ্বিগুণ হবে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।