সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই সৎকার হচ্ছে লাশ রামগঞ্জে আতংকে দাফন কমিটির সদস্যরা

753

আবু তাহের, দেশান্তর সংবাদঃ  
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা করোনা ভাইরাস নিয়ে মৃত ব্যাক্তি বা করোনা উপসর্গে মৃত ব্যাক্তিদের দাফন নিয়ে শুরু হয়েছে নানান জটিলতা। করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব মোকাবেলায় দেশব্যাপী ২৫মার্চ লকডাউনের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশক্রমে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ইসলামী ফাউন্ডেশনকে সাথে নিয়ে ৫এপ্রিল পশ্চিম শোশালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসেনকে সভাপতি করে মৃত ব্যাক্তিদের দাফনের জন্য রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনের পর থেকে (৬জুন ২০২০) পর্যন্ত করোনা উপসর্গে ৮জন এবং পজিটিভ ২জন সহ ১০জন লাশের সৎকার সম্পন্ন করে ওই সৎকার কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটি লাশ দাফনের সময় প্রত্যেক কর্মীকে পিপিই,চশমা,ক্যাপ,মার্কস,হ্যান্ড গ্লাভস,হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জিবানু নাশনক ব্লিসিং পাইডার, পায়ের বুটজুতা,পরিবহরন খরচ,মাইকিং খরচ,ডিস্পোজেবল ব্যাগ দেওয়ার কথা থাকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পৌদ্দার শুধুমাত্র ৪/৫টি পিপিই দিয়ে বাকী সুরক্ষা সামগ্রী না দিয়ে সরকারীভাবে সরবরাহ নেই বলে নিরাপত্তা ঝুকি নিয়েই লাশগুলো দাফন করতে হচ্ছে। এতে করে লাশ সৎকার কমিটির সদস্যদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সম্ভাবনা নিয়ে আতংক এখন চরমে আকার ধারন করেছে। গত ২জুন সকাল ১১টায় উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নরে পশ্চিম শোশালিয়া মসজিদ বাড়িতে করোনা উপসর্গে নুরনবী নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হলে দাফন কমিটির সদস্যরা বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরকারীভাবে প্রয়োনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী না পাওয়ায় ওই ব্যাক্তি দাফন নিয়ে ব্যাপক জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় ওই গ্রামের কামাল হোসেন নামের এক সমাজসেবকের ডোনেশনের টাকায় পিপিই সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে ওই বৃদ্দের লাশ দাফন সম্পন্ন করেন। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শুরু থেকে অধ্যবধি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পৌদ্দার দাফন কমিটির সদস্যদের দাফনের জন্য সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে । অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মকর্তা মুনতাসির জাহান শুক্রবার রাতে তার নিজ ফেইজবুক আইডি থেকে লাশ দাফনে তালেগোলে এদিকে সেদিক থেকে কোন রকমে জোগার করে এ পর্যন্ত ১০টি লাশ দাফনের কথা স্বীকার করে একটি পোষ্ট দিয়েছেন।
উপজেলা লাশ দাফন কমিটির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন জানান, এই পর্যন্ত ১০টি লাশ দাফন করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী না পেয়ে আমার কমিটির সদস্যরা দিনদিন কাজ করতে আগ্রহ হারিয়ে যাওয়াসহ সবাই আক্রান্ত হওয়ার আতংকে রয়েছে। ইউএনও মহোদয়ের ফোন পেয়ে সরকারী হাসপাতাল পর্যন্ত নিজ খরচে আসতে হয়। এরপর ডাঃ গুনময় পৌদ্দারের নির্দেশ শর্তেও হাসপাতালের ষ্টোর কিপার কামাল হোসেন সরকারী ভাবে সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ নেই বলে জানালে শুরু হয় আরেক জটিলতা। তখন এদিক সেদিক নিজ খরচে ফোন দিয়ে একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে ডোনেশান নিয়ে সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করে লাশগুলো দাফন করতে হচ্ছে। তারপর হাসপাতালের সরকারী এম্বুলেন্স ব্যবহার নিয়েও ড্রাইভারের সাথে নানান ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের রামগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বরত মোহাম্মদ সামছুল ইসলাম জানান, লাশ দাফনের সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে জটিলতার বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন সহ ঢাকায় উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পৌদ্দার জানান,করোনা ভাইরাসের উপসর্গে কেউ মারাগেলে আমি তাৎক্ষনিক আমার হাসপাতালের লোকজন পাঠিয়ে মৃতব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করাই হলো আমার কাজ। এরপর সৎকার করার দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান জানান, দাফনের পুরো দায়িত্ব সরকারী হাসপাতাল কতৃপক্ষের। কারন এ সংক্রান্ত সকল ফান্ড তাদের কাছে আসে। আমি শুধু মনিটরিং করি। এরপরেও খুব শীঘ্রই এসমস্যার একটা সমাধান হয়ে যাবে।