রামগঞ্জে মেডিকা হাসপাতালের ডাঃ মাঈদের ভুলে প্রাণ দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের- পর্ব -১

829

রামগঞ্জ(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ-

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ মেডিকা স্পেশালাইজড হাসপাতালের এমডি ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদের অদক্ষতা আর উদাসীনতায় প্রচুর অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অহরহই প্রাণ দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও ওষুধের অপপ্রয়োগে, ভুল অস্ত্রোপচার ও অবজ্ঞা, অবহেলার কারণে একদিকে বহু রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন অণ্যদিকে বহু রোগী অর্থ সম্পদ হারিয়ে বিকলঙ্গ হয়েছেন। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হামলা-মামলাসহ অপ্রীতিকর ঘটনারও জন্ম হচ্ছে।ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদ

সুত্রে জানাযায়, আবদুল্লাহ আল মাঈদ হাসপাতালটিতে একজন অর্থোপেডিক্স ডাক্তার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি হাসপাতালের সকল শেয়ার সুকৌশলে কিনে নিয়ে একক ভাবে মেডিকা স্পেশালাইজড হাসপাতালটি পরিচালনা করেন।
তিনি নামের শেষে এমবিবিএস,এফসিপিএস(কোর্স) সার্জারী. পিজিটি(গাইনী এন্ড অবস) বিএসএমএমইউ(পিজি হাসপাতাল) সিএমইউ আণ্ট্রাসনোগ্রাপী) চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে তার ভুল অস্ত্রোপচার, অবজ্ঞা, অবহেলা, গাফিলতি ও অধ্যক্ষতার কারণে বহু রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন আবার বহু মানুষ অর্থ সম্পদ হারিয়ে পথে বসার অবস্থা হয়েছে।

ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদের অপচিকিৎসায় কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জানাযায়, ভাদুর চুনের ব্যাপারী বাড়ির প্রবাসী কামালের ৮ বছরের মেয়ের হাতের আঙুলের চিকিৎসা করেন তিনি। কিন্তু তার অপচিকিৎসার কারনে আঙ্গুলটি পচন ধরে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলেও রক্ষা করতে পারেনি মেয়েটির আঙুল। মেয়েটি অভিবাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায় ডাক্তারের পক্ষে কিছু সন্ত্রাসী ও কিছু প্রভাবশালীর মধ্যস্থতায় ক্ষতিপূরন হিসেবে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা হয়েছে।

এক আওয়ামীলীগ নেতার নিকট আত্মীয়ের সিজার অপারেশন করে গজ ভিতরে রেখে সিলাই করে দেন। পরে রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা নিয়ে গেলে সেখানে অপারেশন করে গজ বাহির করা হয়। পরে ১লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে রফাধফা করা হয়।

ভাদুর ইউনিয়নের গ্রাম্য ডাক্তার জসীমের ছেলের ভাঙ্গা পা নিয়ে আসেন রামগঞ্জ মেডিকা স্পেশাইজড হাসপাতালে, কিন্তু ডাক্তারের অবহেলার কারনে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে ছেলেকে নিয়ে যায় কুমিল্লায়। পরে আবদুল্লাাহ আল মাঈদ ডাক্তার জসীমকে নিজের ভুল স্বীকার করে কিছু টাকা দিয়ে রফাদফা করার চেষ্টা করেন।

গর্ভবর্তী মহিলাদের সিজারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ কোথায়। রামগঞ্জের একজন উকিলের স্ত্রীর সিজারের সময় তার ব্লাাডার (মূত্রথলী) কেঁটে পেলেন এই আবদুল্লাহ আল মাঈদ। পরে দীর্ঘ দিন অসুস্থ্য থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে হয়েছে তাকে। তারা থানায় অভিযোগ করার প্রস্ততি নিলে আবদুল্লাহ আল মাঈদ তার লোকজন দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিমাংসা করেন।

চন্ডীপুর ইউনিয়নের এক গর্ভবর্তী মহিলাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার কারনে তার বাচ্ছা প্রসবের নির্ধারিত সময়ের আগেই বাচ্ছা বের হয়ে যায়। এতে প্রচন্ড রক্তক্ষরন হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তারও ঢাকায় অনেক টাকা পয়সা খরচ করতে হয়েছে। পরে পৌরসভার সাবেক এক কাউন্সিলর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিমাংসিত হয়।

পানপাড়ার বেলায়েত মাষ্টারের মেয়ের আফসানা আক্তারের এফেনডি সাইডের ব্যাথার জন্য অপারেশন করেন ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদ। সেখানেও করেন ভুল অপারেশন। ৫ দিনের মাথার রোগীর পেটে আবার প্রচন্ড ব্যাথা হলে পূনরায় করেন অপরেশন। মেয়েটি এখনো সুস্থ্য হয়নি। নিচ্ছে তৃতীয় বার অপারেশনের প্রস্ততি। বিচার চান ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাঈদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক রামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন ডাক্তার জানান, ডাক্তার মাঈদের সনদগুলো সঠিক কিনা সন্দেহ আছে। তার ভুল অপারেশন ও চিকিৎসায় বহু মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে অর্থনেতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মেডিকা স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা: মাঈদ তার ভুল স্বীকার করে বলেন, কিছু সমস্যা হয়েছিল আবার তা আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। চিকিৎসা করতে গেলে এমন হতেই পারে এ কথা বলে তিনি সাংবাদিকদের চায়ের দাওয়াত দেন।

এবিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গুনময় পোদ্দার বলেন, তার বিরুদ্ধে এ ধরনের বহু অভিযোগ শুনতেছি। কেউ লেখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে