রামগঞ্জে পরিচিতি সভা ছাড়াই উপজেলা আ”লীগ কমিটির মেয়াদ শেষ সভাপতি-সম্পাদক ফেইসবুকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দোষলেন একে অপরকে

999

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের কমিটির হওয়ার তিন বছর পার হয়ে মেয়াদ শেষ হলেও হয়নি পরিচিতি সভা।উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু ঢাকায় বসবাস করায় সাধারন সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমিন বার বার আয়োজন করেও তার অসহযোগীতার কারনে একটি পরিচিতি সভা, আলোচনা সভা বা বর্ধিত সভাও করতে পারেন নাই। নিরুপায় হয়ে আজ সোমবার সকালে সাধারন সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমিন সভাপতিকে দোষারোপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লেখেন। তার কিছুক্ষন পর সভাপতিও নিজেকে নির্দোষ দাবী করে লেখলেও উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের বহু নেতাকর্মী সভাপতির পদত্যাগ দাবী করে বিভিন্ন লেখা লেখেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে।

সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই এ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির হওয়ার পর থেকে তৃনমুলের কোন সম্পর্ক রাখেন নাই। এমন কি তিনি জাতীয় অথবা দলীয় কোন প্রোগ্রামে উপস্থিত হন নাই কোন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বও করেন নাই। তিন বছর আগে কমিটি হলেও তার ১ বছর পর সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু তার পচন্দের কিছু প্রবাসী এবং কিছু বিএনপি জামায়াতমনা ব্যক্তিদের নাম রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করেন। কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আজও হয়নি পরিচিতি সভা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমিন এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ আনোয়ার হোসেন খানের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ , ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বার বার সভাপতিকে পরিচিতি সভা করার এবং জাতীয় ও দলীয় অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করার জন্য ব্যনারে নাম লেখে অনুরোধ করলেও তিনি আসেননি।

ভাদুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভুইয়াসহ তৃনমুলের কয়েকজন নেতা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এ্যানী চৌধুরীর ভগ্নিপতি সফিক মাহমুদ পিন্টুকে দলের গুরুত্বপূর্ন্য পদে দেওয়ায় উপজেলা আওয়ামীলীগসহ তৃনমুল আওয়ামীলীগের সাথে দুরুত্ব। সভাপতির পদত্যাগ করা উচিত।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আ.ক.ম রুহুল আমিন জানান, ৬ নমেম্বর উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরি কমিটির আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। কিন্তু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু নিষেধ করলেন। এর আগেও অনেক বার সভার আয়োজন করলে তিনি নিষেধ করেন। তিনি দলীয় এবং জাতীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে ঢাকায় নিজের ব্যবসা বানিজ্য করছেন। এদিকে স্থানীয় সংসদ ড.আনোয়ার হোসেন খানের নেতৃত্বে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বেলাল আহম্মেদ, ৯জন ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার ৯ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্চাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগসহ তৃনমুলের নেতকর্মীদের সাথে নিয়ে সকল অনুষ্ঠান সফলতার সাথে পালন করে আসছি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টুর জানান,  উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারলাম ,উনি উপজেলা আওয়ামী লীগের মিটিং না হওয়ার জন্য আমাকে দায়ী করলেন এবং অতীতেও আমি নাকি থানা আওয়ামীলীগের মিটিং করতে নিষেধ করেছি, যাহা মোটেও সত্যি নয়। আমি হলফ করে বলতে চাই ,উক্ত মিটিং সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না।