রামগঞ্জে কাউন্সিলর প্রার্থী কে কেন্দ্রকরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা,আতংকে ভোটারা

816

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সহিংসতা এড়াতে প্রশাসনের কার্যকরী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভোটাররা। এ নিয়ে তারা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আকুতিও জানিয়েছেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সহিংসতার আশঙ্কায় ৩২ জনের নাম-পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। আগামীকাল শনিবার (৩০ জানুয়ারি) অনুষ্টিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু ও সহিংসতা রোধে জেলা প্রশাসক, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার ও র‍্যাবের কাছে ওই ওয়ার্ডের ভোটার রাকিবুল হাসান অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করা হয়।
তবে জেলা পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ৩২ হোক আর ৩০০ জনই হোক, ভো কেন্দ্রে কোনো সহিংসতার সুযোগ নেই। নির্বাচনে কোনো সহিংসতা করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসন থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর বাজার এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী যুবলীগ নেতা শাখাওয়াত হোসেন রাজু ও ছাত্রলীগ নেতা কামরুল হাসান ফয়সাল মালের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা গেছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় প্রার্থীরা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। পরে রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই দুটি কেন্দ্র ছাড়াও আরো ৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো হলো, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য আঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উত্তর দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আউগানখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামগঞ্জ স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলছমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রশাসনও এসব কেন্দ্রের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। ইতোমধ্যে ৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন। শনিবার ওই ৯টি কেন্দ্রে কাউন্সিলরদের ভোট নিয়ে ব্যাপক সহিংসতার ও রক্ত ঝরার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রিয়াজুল কবির বলেন, আমরা কাজে বিশ্বাসী। রামগঞ্জের নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। ৩২ জন নয়, ৩০০ জন এলেও কোনো সহিংসতা করার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মো. আবু তাহের বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সতর্ক রয়েছি।