রামগঞ্জের বহুল আলোচিত চেয়ারম্যান পদটি শূণ্য ঘোষণা

350

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ভোলাকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ চেয়ারম্যান মানিকের বিরুদ্ধে সরকারী প্রকল্প, ভিজিডি/ভিজিএফ কার্ড বিতরন, জন্ম/মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ঘরে ঘরে নাম্বার প্লেট প্রদান, ট্রেড লাইসেন্সসহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ম, দূর্নীতি, অর্থ আত্নসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের ১০জন সদস্য কর্তৃক অনাস্থা প্রস্তাব ও সরেজমিনে তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯(১৩) এর ৩৫(১) (চ) ধারা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারী) এক আদেশে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে৷
জানা যায়, চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিক ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে শপথের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহন করেন৷ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে পরিষদের১২জন সদস্যের মধ্যে ৩জন সদস্যকে নিয়ে পরিষদ মাসিক ও উন্নযন সভা না করে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প, সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স ও ঘরে ঘরে নাম্বার প্লেট প্রদান করার নামে দূনীতি,অর্থ আত্নসাৎ এবং স্বজনপ্রীতি করে আসছে৷ ফলে ১০ সদস্য চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে ৩কোটি টাকার হিসাব ও বিভিন্ন অনিযমের ব্যাপারে জানতে চাই৷ এতে চেয়ারম্যান তাদেরকে এর প্রতিউত্তর না দিয়ে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে নানাভাবে হুমকী ধমকী দেয়৷ পরবর্তিতে ৮জুন নোয়াখালী দূর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক বরাবর আবেদন ও ১৩ জুলাই রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনাস্থা প্রস্তাব করেন৷ এ ছাড়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লক্ষীপুর জেলা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন ও অর্থ আত্নসাৎসহ দুইটি মামলাসহ স্থানীয়ভাবে বহু নারী নির্যাতন, মাদক সেবন,মাদকব্যবসা, শালিস বানিজ্যসহ বহু অভিযোগ রয়েছে৷
স্থানীয় দুলাল পাটোয়ারী, সিরাজ মিয়া, মহিন, টিপু মিয়া, জুয়েলসহ অর্ধশতাধিক লোক জানান, চেয়ারম্যান মানিককে বরখাস্তের মাধ্যমে আইন শাসনের প্রতিফলন ঘটলো এবং ইউনিয়নবাসী তাঁর অত্যাচার নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবেন৷ তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
অনাস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পরবর্তি আইনানুগ বিচারের দাবী করেন৷
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা জানান, চেয়ারম্যান বিষয় ও পরিষদ পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷