মানবিক কারণে করোনা হাসপাতাল করেছি: ইটিভির সাক্ষাৎকারে আনোয়ার খান এমপি

823

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মানবিক কারণে করোনা হাসপাতাল করেছি। অথচ কেউ কেউ না বুঝে অপপ্রচার চালাচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারির মত দেশের সব দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকবে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

বুধবার দেশের প্রথম বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টিভিতে (ইটিভি) এক সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেছেন, আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও এমডি ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি।

সরকারের সহযোগী হিসেবে মানবসেবায় অপ্রতীম উদাহরণ হওয়ার প্রত্যাশা এই প্রতিষ্ঠান প্রধানের। তিনি বলেন,মানবিক দিক সম্পূর্ণ চিন্তা করেই কোভিড রোগীদের করোনমুক্ত করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা। এটি নতুন একটি প্রয়াস। এই প্রয়াসে আসতে আমরা অনেক কষ্ট করেছি, অনেক ধরনের বিশ্রামহীনভাবে, রাত-দিন পরিশ্রম করে মাত্র ১৯ দিনে আমরা দুইশো বেডের হাসপাতাল তৈরি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে উপহার দিয়েছি। শুধু একটিমাত্র উদ্দেশ্য- মানুষকে সেবা দেবো। মানবাতার পাশে থাকবো। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে ডেকেছেন আমি যেহেতু উনার দলের মানুষ, আমি উনার সংসদ সদস্য যেহেতু উনি আমাকে তৈরি করে এনেছেন সেই প্রেক্ষাপটে উনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং মানুষের প্রতি মমত্ব রেখেই আমার নতুন এই প্রয়াস।সেবার ধরন আলাদা হওয়ায় ব্যয় রেড়েছে রোগীদের- এমন দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

তিনি বলেন, এটা ব্যয়বহুল চিকিৎসা। তাদের মাস হলো ১০ দিনে। অর্থাৎ তারা দশদিন কাজ করবে বাকি ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকবে। আর ৬দিন ফ্যামিলির সাথে থাকবে। তাহলে একজন মানুষ একই জায়গায় তিনজন প্রয়োজন। বেতন হলো দ্বিগুণ। তাহলে এটা ব্যয়বহুল চিকিৎসা। সাধারণ চিকিৎসার বিল আর কোভিড রোগীদের চিকিৎসার বিল কিন্তু এক নয়! কোভিডের সিট যদি দশ হাজার টাকা হয় তাহলে সাধারণ চিকিৎসার সিট হবে ৫ হাজার টাকা। সুতরাং, আজ যারা আমাদের প্রশ্ন করে, ‌খরচ বেশি অনেক ব্যয়বহুল, তারা না বুঝেই অনেক কথা বলে। তারপরও যখন তারা দেখে জীবন ও জীবিকা যেমন কঠিন কোভিড রোগীদের চিকিৎসাও অনেক কঠিন।

একটা মেডিকেল অফিসার ২৭ হাজার টাকা। শুধু কোভিড হাসপাতালে কাজ করে পাচ্ছেন ৫৪ হাজার টাকা। হোটেল খরচ আছে তার পেছনে আরো ২০ হাজার টাকা। এই মোট ৭৪ হাজারের তিনগুণ ২ লাখ দশ হাজার টাকা। কোভিড রোগীদের চিকিৎসাই এরকম। সেও বাড়ি যেতে পারবে না, জায়গা দেবে না কেউ। আমরা খুব চিন্তা করেই মানুষের জন্য এখানে আসছি।

এরপরও কমছে না করোনা আত্রান্ত রোগীর চাপ।

তিনি বলেন, সমস্ত মানবিক গুণাবলির কারণেই করছি। কী পাব আর কী পাবো না সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো- মানবতার সাথে আমরা থাকতে চাই। মানবিক গুণাবলী যত আছে সেটা দিয়েই আমরা এটা করছি। যারা অপপ্রচার করতেছেন সম্পূর্ণ না বুঝে করতেছেন। তারা করোনা রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কে না জেনেই করতেছেন। তারা যদি জানতেন করোনা রোগীর সেবাটা কী আর সেটা কত কঠিন! আমি আপনাদের জানাতে চাই, আমরা বাসা, অফিসে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছে শোনামাত্রই দৌড়। কত জোড়ে দৌড় দেবে সেটার হিসেব থাকে না। মা করোনা রোগী, ছেলে আর মাকে তখন চেনে না। যে বাসায় স্বামী করোনা আক্রান্ত হয় স্ত্রী দ্রুতগতিতে পলায়ন করে। আমরা সেই মানুষকে কাছে টেনে কাছে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

আজকে আমার কষ্ট হয় ওখানেই, আমি সরকারের সাথে সাড়া দিয়ে এখানে আসছি। একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তো কেউ আসে নাই। সুতরাং আমার উদ্যোগ নিয়ে আপনারা এমন কিছু কথা বলবেন না, যে উদ্যোগ নষ্ট হবে। মানুষের পাশে কে দাড়াইছে, কে আসলো কতটা হাসপাতালের মালিক আসলো? কিন্তু আমি আনোয়ার খান তো আসলাম আমার হাসপাতাল নিয়ে। অনেকে কিন্তু কোভিড নন কোভিড একই জায়গায় করেছে। সেখানে আমার দুটি হাসপাতাল কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। আপনাদের এটাও বিশ্লেষণ করতে হবে। এখন সমাজে যদি কেউ কিছু বলে, আপনার আমার কী বলার আছে?

তিনি বলেন, আজকে দেশের মহামারিতে যদি আমরা অংশগ্রহণ না করি জাতির কাছে কিন্তু আমরা একটা দায়বদ্ধ থেকে যাবো।

করোনাভাইরাসের বিস্তার যখন অপ্রতিরোধ্য তখন সরকারে সহযোগী হিসেবে আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে শুরু হয় বিশেষায়িত চিকিৎসা। সাধ্য সীমিত কিন্তু সাধ ছিলো অনেক। আবার সময়ও ছিলো কম। তাই তড়িঘরি করেই যাত্রা শুরু কোডিভ ব্লকের। রাত দিনের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে আজকের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান।