প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই করোনায় সফলতা: আনোয়ার হোসেন খান এমপি

191

দেশান্তর সংবাদ ডেস্কঃ   

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সফলতা এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান।

বহস্পতিবার দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ‌‘করোনায় কেমন চলছে স্বাস্থ্য খাত’ বিষয়ক টকশোতে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় সফলতা এসেছে। আমাদের মৃত্যু হার কম। যেখানে পাশের দেশ ভারতে তিন শতাংশের উপরে সেখানে আমাদের এক শতাংশের কিছু বেশি। এটা আমাদের সফলতা। আমাদের সুস্থতার হার বেশি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটাতে কোন ভয় পাচ্ছেন না। ভ্যাকসিন আসলে পৃথিবীটা নতুন রূপে আবির্ভূত হবে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, কোভিড মোকাবেলায় সরকার সবাইকেই ডেকেছেন, কিন্তু অনেকেই আসে নাই। কিছু মানুষ করোনা চিকিৎসা নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছে। আমাদের সদস্যভুক্ত মেডিকেল কলেজ শুধু মানবতার পাশে ছিলো। কিন্তু তারা লাভ করেছে এটা ভুল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সুযোগ করে দিয়েছেন জনগণের পাশে থাকতে, মানবতার পাশে থাকতে। এজন্য আমি আমাদের নেত্রীকে ধন্যবাদ দিব।
করোনা মোকাবিলায় সরকার সফল হোক সেটা অনেকে চায়নি দাবি করে ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, অনেকেই চেয়েছিলেন সরকার যেন সফল না হয়। অনেক লোক মারা যাবে, তাদের সুবিধা হবে। তারা বলতে পারবে সরকার ব্যর্থ। কিন্তু আল্লাহ পাক সে কাজটা করতে দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উপর আল্লাহর রহমত আছে বিধায় আমরা সকলেই সুস্থ বোধ করছি, ভালো আছি।

করোনার ভ্যাকসিন পেতে সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, করোনার ভ্যাকসিন আজ হোক আর কাল হোক আসবে। হয়তো একটু সময় নিচ্ছে। আমাদেরকে চায়না দেবে নাকি ভারত দেবে নাকি ইউরোপ দেবে সেটা বিষয়বস্তু নয়। আমরা ভ্যাকসিন পেতে চাই। সেজন্য সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যে আগে দেবে সেটাই আমার সরকার গ্রহণ করবে। আমাদের দেশে বড় বড় ফার্মাসিটিক্যাল আছে। আমাদের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এমনও তো হতে পারে তারাও এটা করতে পারে। এটা অবিশ্বাসের কিছু নেই। বাঙালি পারে না এমন কোন কাজ নেই।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর গত এক বছরে রাস্তাঘাট সংস্কার করেছি। প্রায় আড়াইশো কিলোমিটারের মতো রাস্তা সংস্কার করেছি, স্কুল সংস্কার করেছি, মাদ্রাসা করেছি। আমার এলাকায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে, স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে। করোনার কারণে অনেক কাজ থমকে গেছে। করোনা না থাকলে আরো অনেক কিছুই করা যেত।
নির্বাচনী এলাকার মানুষের করোনা চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে আনোয়ার খান বলেন, আমার এলাকায় করোনার চিকিৎসা নিয়ে কোনো ভোগান্তি হয়নি। আমার এলাকায় যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের অবস্থা খারাপ তাদেরকে আমার হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় দেশ চালান না। উনি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে আপন মনে করে দেশ চালান। উনার শিক্ষা নিয়ে আমি আমার রাজনৈতিক অঙ্গন সাজিয়েছি।

তিনি বলেন, যারা আমার নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে তাদের চিকিৎসাও আমি করিয়েছি। তারা আমাকে আপন মনে করে আমার কাছে এসেছেন। আমি খোঁজ নিয়ে তাদেরকে নিয়ে এসেছি। আমি মনে করি আজকে সে আমার আপন নয়, কিন্তু আগামীতে তো হতে পারে? আমি সুযোগ নষ্ট করবো কেন? আমি আমার জনগণের কাছে অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে থাকতে চাই।