চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ১০, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

59

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২শ ৭৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এন্টিজেন টেস্টসহ চট্টগ্রামের দশটি ও কক্সবাজারের একটি ল্যাবে ৩ হাজার ৪৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২৭৩ জনের দেহে করোনা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৮৩৫ জন ও ৪৩৮ জন বিভিন্ন উপজেলার।
চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮৫ হাজার ১৪৪ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৬৩৬১৫ জন এবং ২১৫২৯ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের ৪ জন নগরীর বাসিন্দা, ৬ জন বিভিন্ন উপজেলার। করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট ৯৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ৫৯১ জন এবং ৪০৩ জন বিভিন্ন উপজেলার।
সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামের উপজেলা পর্যায়ে আবারও বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যা । ১৪ উপজেলার মধ্যে হাঠহাজারী উপজেলায় ৯৬ জন, বোয়ালখালী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় ৫৯ জন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৪০ জন , রাউজান উপজেলায় ৩০ জন, সন্দ্বীপ ও আনোয়ারা উপজেলায় ২৫ জন, সীতাকুণ্ড ও বাঁশখালী উপজেলায় ২৩ জন,মিরশ্বরাই ও লোহাগাড়া উপজেলায় ১৭ জন,সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ জন এবং পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় ৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে করোনায় যখন জনজীবন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনি নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভয়ানক ডেঙ্গু। দিন দিন চট্টগ্রাম নগরজুড়ে মশার অসহনীয় বংশবিস্তারের ফলে করোনার ফাঁকেই আড়ালে আরেক প্রাণঘাতী রোগ ডেঙ্গু উঁকি দিচ্ছে।
চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতে শুরু করেছে। সরকারি হিসেবে গত একমাসে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অন্তত দুজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ অনেকেই বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ছাড়াও চিকিৎসা নেন বাসায় থেকেও।
 চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত একমাসে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ জন। মৃত্যু হয়েছে দুজনের।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ও দেওয়ানহাট এলাকায় এডিস মশার লার্ভা ও পিউপির অস্তিত্ব মিলেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তাদেরও বেশিরভাগই এই দুই এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর ৯৯টি এলাকার ৫১টি স্পট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ৬টিসহ মোট ৫৭টি স্পট থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ১৫টি স্পটে শতভাগ এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা বলেন, এসব লার্ভা সংগ্রহ করে কিছুদিন রাখার পরে মশার উৎপত্তি হয়। এ থেকে গবেষকরা বুঝতে পারেন, কোন কোন পজিশনে মশার লার্ভার মধ্যে এডিস মশার উপস্থিতি থাকে। গবেষণাকালে বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের পাত্র, দোকানের ব্যাটারির সেল ও টায়ার এবং রাস্তার পাশের পাইপে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। এসব এলাকা থেকে পাওয়া লার্ভার শতভাগই ছিল এডিস মশার।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে দেশে ২৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। জুলাইয়ে এসে একলাফে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজার ২৮৬ জনে।
অন্যদিকে আগস্টের প্রথম দুই দিনে দেশে ৫২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে রোববার (১ আগস্ট) থেকে সোমবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৭ জন। চলতি বছর এটি একদিনে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের রেকর্ড।