কোভিড-১৯ চিকিৎসায় আমরা যেভাবে নিজস্ব উদ্যোগে এগিয়ে এসেছি: আনোয়ার খান এমপি

288

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  

আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি বলেছেন, দুই-একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়মকে কেন্দ্র করে যেভাবে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, সেই অনুপাতে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর ভালো দিকগুলো কেউ তুলে ধরছেন না। আজকে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় আমরা যেভাবে নিজস্ব উদ্যোগে এগিয়ে এসেছি, রোগগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, সেগুলো কিন্তু সেইভাবে প্রচার পাচ্ছে না।

বুধবার রাত ১০টায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসি’র রাজকাহন লাইভ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘স্বাস্থ্যসেবার মান কে দেখছে?’ শীর্ষক বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় বলা হয়, সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা নিয়ে ব্যাপক প্রতারণার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়গুলো কেন হচ্ছে, কারা তদারকি করবে? আপনি কী মনে করেন?

জবাবে আনোয়ার হোসেন খান বলেন, নিঃসন্দেহে লাইসেন্স নবায়ন না করা চরম অন্যায়। তবে দুই-একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা করার চেয়ে বর্তমানে প্রেক্ষাপটে আমাদের কাছে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা দরকার বলে আমি মনে করি। কোভিডযুদ্ধে আমরা কে কীভাবে সাহায্য করবো সে বিষয়ে আলাপ দরকার। মানুষের পাশে দাড়ানোটাই এখন কর্তব্য।

তিনি আরো বলেন, কিছু মানুষ অনিয়ম করে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীজুড়েই এ চিত্র দেখা যায়। আমাদের মন্ত্রণালয় আছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আছে। তারা এ বিষয়গুলো তদারক করবে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকার আমাদেরকে যেভাবে বলছে, সেভাবেই আমরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একযোগে কাজ শুরুর পর আমরা অনেক সুফলও পেয়েছি।

তিনি বলেন, রিজেন্টের মতো দুই-একটা প্রতিষ্ঠান অনিয়মে জড়িয়েছে। কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতালগুলো যে ভালো কাজ করছে, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। সেসব বিষয়গুলো তুলে ধরাও দরকার। আমি গণমাধ্যমকে আহবান জানাবো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে।

করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক প্রাইভোট হাসপাতালে অতিরিক্ত ফি নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, আমরা এ খাতে নিজস্ব বিনিয়োগ করেছি। লোকবল থেকে শুরু করে সব কিছুর ব্যবস্থা করেছি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে হোটেলে রাখতে হয়। এতে আমাদের কয়েকগুণ বেশি খরচ হচ্ছে। যারা বলছেন, আমরা চুক্তি ভঙ্গ করেছি, তারা না বুঝে বলছেন। আমরা বেসরকারিভাবে কাজ করছি। মাত্র ১৯ দিনে ২০০ শয্যার হাসপাতাল করেছি। ৫০ কোটি টাকা খরচ করেছি। আমি আমাদের কাজ নিয়ে গর্বিত। কিন্তু না বুঝে এক শ্রেণির মানুষ মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আমাদের ১৪ শ স্বাস্থ্যকর্মী সন্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছে। সরকারের দিকে না তাকিয়ে থেকে আমরা সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করেছি।

তিনি গণমাধ্যমের কাছে আবেদন রেখে বলেন, আমাদেরকে সবার সাহায্য করতে হবে। আমি মনে করি একজনের দোষের জন্য সবাইকে দোষী করাটা ঠিক নয়।

অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটছে। এর কারণ তদারককারী সংস্থায় জনবল সঙ্কট রয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরে হাজার হাজার হাসপাতাল, ক্লিনিক। এখানে অনেক জনবল দরকার। মনিটরিং করতে হবে। প্রাইভেটক সেক্টরের তদারকির জন্য শক্ত জনবল দরকার। করোনায় তদারকির অভাব হয়েছে বলে আমি মনে করি। যাদের দায়িত্ব ছিলো তাদেরও গাফিলতি আছে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, হাসপাতালের নিবন্ধন, অনুমোদন ডিজির রুটিন কাজের মধ্যে পড়ে। বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে হচ্ছে। প্রতিবছর এটা নবায়নের শর্ত থাকে। দেশে ১৩ হাজার প্রাইভেট হাসপাতাল আছে। অথচ এগুলো তদারক করার জন্য একজন সহকারী পরিচালকসহ মাত্র ৩ জন কর্মকর্তা রয়েছে।

তিনি বলেন, এতো কম সংখ্যক জনবল দিয়ে প্রত্যাশিত ফলাফল আসবে না। এগুলো নিরসনের জন্য হাসপাতাল শাখাকে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। যারা অসৎ, যাদের অমানবিক চিন্তা রয়েছে, তারাই চিকিৎসার মতো বিষয় নিয়ে অনিয়ম করতে পারে।