আক্রান্ত শ্রমিকদের ৭৩ শতাংশ পোশাক কারখানার

65

দেশান্তর সংবাদ ডেস্কঃ   

সারা দেশে চলমান লকডাউনের ছুটির মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল থেকে সচল হয় দেশের ৬ শিল্প এলাকার কারখানাগুলো। কারখানার দোটানা সিদ্ধান্তের কারণে অনেক শ্রমিকই কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। যার ফলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদের মধ্যে বেশি ছিলো। এরই মধ্যে শিল্প-কারখানাগুলোর আড়াই’শ এর অধিক শ্রমিক কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্ত এসব শ্রমিকের ৭৩ শতাংশই পোশাক কারখানার।

ছয় শিল্প কারখানায় শুধু পোশাক খাতের কারখানাই আছে ২ হাজার ৮৯৩টি। এ খাতেরই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বস্ত্র শিল্পের কারখানা আছে ৩৮৯টি। এই ছয় শিল্প এলাকায় গত ১ জুন পর্যন্ত সাতদিনে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫১। ২৫১ আক্রান্ত শ্রমিকের মধ্যে ১৮৪ জন বা ৭৩ শতাংশই পোশাক কারখানার।

রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) আওতাভুক্ত ছয় শিল্প এলাকায় মোট ৩৬৪ কারখানার মধ্যে ৩৯টিতে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪৬ জন শ্রমিক। অন্যান্য খাতের ৩ হাজার ৮৬৬টি কারখানার মধ্যে ১৬টির ১৮ জন কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

শিল্পসংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহ—এই ছয় শিল্প এলাকায় পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা আছে ১ হাজার ৮৮২টি, যার ৫১টিতে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন ১২৬ জন শ্রমিক। আরেক সংগঠন বিকেএমইএ সদস্য কারখানা আছে মোট ১ হাজার ১০১টি, যার ২১টিতে আক্রান্ত শনাক্ত শ্রমিক ৫৮ জন। পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের সংগঠন বিটিএমএ সদস্য মোট ৩৮৯ কারখানার মধ্যে দুটি কারখানায় তিনজন শ্রমিক করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।

গাজীপুর এলাকায় আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া মোট ৬৬ শ্রমিকের ৫৯ জন বিজিএমইএ সদস্য ২১ কারখানার। এছাড়া বিকেএমইএর সদস্য তিনটি কারখানার চারজন শ্রমিক কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এই পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বস্ত্র শিল্প মালিক সংগঠন বিটিএমএর সদস্য একটি কারখানার একজন শ্রমিক কভিড আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম এলাকার মোট আক্রান্ত শনাক্ত ৪৮ শ্রমিকের একজন বিজিএমইএ সদস্য একটি কারখানার। এছাড়া বিকেএমইএর একটি সদস্য কারখানার একজন শ্রমিকও করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এ এলাকায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কারখানার শ্রমিকই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামের মোট আক্রান্তের ৩৯ জনই বেপজার আওতাধীন কারখানার।

নারায়ণগঞ্জ এলাকার বিজিএমইএ সদস্য দুটি কারখানার দুজন কভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। আরেক সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য ১৭ কারখানার আক্রান্ত শনাক্ত শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩। এ এলাকায় বিটিএমএ সদস্য কোনো কারখানায় কভিড-১৯ আক্রান্ত শ্রমিকের তথ্য পাওয়া যায়নি। নারায়ণগঞ্জে বেপজার আওতাধীন ছয় কারখানার সাতজন শ্রমিক কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য খাতের চারটি কারখানার পাঁচজন শ্রমিক কোভিড-১৯ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল